জমি নিয়ে বিরোধ: গ্রাম্য সালিশ ব্যর্থ, আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পোষাইদ গ্রামে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মো. হাবিজ উদ্দিন (৫৫) শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর দায়েরকৃত অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে রেজাউল (২৫), সুন্দর আলীর ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (৩৫), খোরশেদ মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২৫), মৃত উছমান ফকিরের ছেলে সবুজ ফকির (৪০), মৃত সুন্দর আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪০), এবং মৃত রহম আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৫৮)।
অভিযোগে জানা যায়, হাবিজ উদ্দিন ও তার ওয়ারিশগণ এস এ খতিয়ান ৯১৪, আর এস খতিয়ান ৬৪৭, দাগ নং ১৫৬৪ এর অধীনে প্রায় ৪৬ শতাংশ জমির পৈত্রিক মালিক।
তিনি জানান, একই জমির আংশিক অংশে থাকা বিবাদীরা তাদের অংশের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা জবরদখল করে ভোগদখল করছেন এবং মালিকানাধীন ১৪ ফুট প্রস্থের চলাচলের রাস্তার উপর স্থাপনা নির্মাণ করছেন, যার ফলে বসতবাড়িতে যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রাস্তার উপর নির্মাণকাজ শুরু করলে হাবিজ উদ্দিন বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাকে গালাগালি করে এবং মারধরের জন্য উদ্যত হয়।
এর আগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশি বৈঠক হলেও বিবাদীরা কর্ণপাত করেনি। ফলে ভুক্তভোগী গাজীপুর জেলা জজ আদালতের প্রথম দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা (নং-২৬৩/২৫) দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার বিষয়টি জানার পর থেকে বিবাদীরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে এবং গত ২৫ জুলাই সকাল ৮টার দিকে লাঠি, রড, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসহ জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে কাজ শুরু করে।
হাবিজ উদ্দিন বাধা দিতে গেলে তাকে ধাওয়া করে বাড়িতে তুলে নিয়ে মারধরের হুমকি দেয় এবং জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সরে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন মোঃ সবুজ ফকির বলেন, “আমরা শত বছরের পুরনো বসতবাড়ি ভেঙে আমাদের নিজ মালিকানাধীন জমিতে নতুন করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছি। যদি জমি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকে, তবে একই দাগে আমাদের অংশ থেকেও আমরা দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমাদের নামে থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা দিয়ে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিস বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি।
অথচ আমাদের নির্মাণকাজ চলাকালে হঠাৎ করে এসে তারা বাধা দিয়ে উল্টো আমাদেরই হয়রানি করেছে।”
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের বলেন, "জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"