কুয়েতে নারী গৃহকর্মী পাঠানো নিয়ে সতর্কতা

কুয়েতে নারী গৃহকর্মী (খাদ্দামা) পাঠানোর ক্ষেত্রে অবৈধ ভিসা বাণিজ্য ও দালাল চক্রের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে নারী গৃহকর্মী প্রেরণ সংক্রান্ত কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত না থাকায় বর্তমানে সরকারিভাবে এ ধরনের শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, চুক্তি না থাকায় কোনো নারী গৃহকর্মীর ভিসা সত্যায়নেরও সুযোগ নেই। এ অবস্থায় একটি অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রচারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে কুয়েতসহ বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের দেশের ভিসা বিক্রির চেষ্টা করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘কুয়েত গৃহকর্মী ভিসা’ রয়েছে—এমন দাবি করে প্রলোভনমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে বিভিন্ন বয়সী নারীদের টার্গেট করে বিদেশে কাজের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত একজন দালালকে ঘিরে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ভিসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে, গত ২ জুলাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যাদের স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, কোনো ধরনের প্রলোভনে না পড়ে অননুমোদিত পথে কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অসাধু দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অবৈধ ভিসা বাণিজ্যের তথ্য পেলে তা দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা দূতাবাসকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।