মার্কিন ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার আগমুহূর্তে ইরান বিমান ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের দুটি বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে কাতারের বিমানবাহিনী। এই অভিযানের বিষয়টি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোভিয়েত আমলের দুটি সু-২৪ কৌশলগত বোমারু বিমান পাঠায় কাতারের কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটির দিকে। এই ঘাঁটিতে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকেন। একই সঙ্গে কাতারের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রাস লাফান প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
একটি সূত্রের দাবি, ইরানি জেট দুটি লক্ষ্যবস্তু থেকে ‘মাত্র দুই মিনিট’ দূরে ছিল। অন্য একটি সূত্র জানায়, বিমানগুলোকে শনাক্ত করার পর তাতে ‘বোমা ও নির্দেশিত অস্ত্র’ বহনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
কাতার প্রথমে রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাডার এড়াতে ইরানি বিমান দুটি প্রায় ৮০ ফুট নিচু উচ্চতায় উড়ছিল। ‘সময় সংকট’ ও ‘উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে’ সেগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এরপর কাতার তাদের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। এক পর্যায়ে আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে কাতারি এফ-১৫ ইরানি জেট দুটি ভূপাতিত করে। বিমান দুটি কাতারের আঞ্চলিক জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ক্রুদের খোঁজে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ইরানের মানবচালিত যুদ্ধবিমান ব্যবহারের এটিই প্রথম ঘটনা। একই সঙ্গে কাতারের বিমানবাহিনীর ইতিহাসেও এটি প্রথম সরাসরি আকাশ-থেকে-আকাশ সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা।