প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীকে কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব : শিবির নেতা

রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে সংঘর্ষের জেরে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে সংগঠনটির মহানগর সভাপতি ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে এর জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন)।
সন্ধ্যায় ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে সাহেব বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সোনাদিঘীর মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইমরান নাজির বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমার একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীকে কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।’
কোনো নেতাকর্মী আহত হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন নয়, ছাত্রশিবির রাজপথে জীবন দেওয়া সংগঠন। আমরা জীবন দেবো, কিন্তু আমার ছাত্রসমাজের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মীর ওপর যদি কোনো হামলা হয়, তার দাঁতভাঙা জবাব আমি দেবো, ইনশা আল্লাহ।’
ইমরান নাজির ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্যও। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আবদুর রহিম, রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও খায়রুল ইসলাম।
ছাত্রদলের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ছাত্রশিবিরের সমাবেশের পর রাতে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক। ছাত্রদলকে ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ইমরান নাজিরকে হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, ইমরান নাজির সাহেব, আপনার বাসা কুমিল্লা। আপনি হয়েছেন পিআর পদ্ধতিতে নেতা। রাজশাহীতে আমাদের নাড়ি পোঁতা, এই রাজশাহীতেই হচ্ছে আমাদের জন্ম, পৈতৃক ভিটার ওপর বসবাস করি। যখন লাগবেন, তখন টের পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ছাত্রদল রাজপথে নামে, ছাত্রশিবির কেন, ওই রাজাকারের সংগঠন রাজশাহীতে পা ফেলারও জায়গা পাবে না।’
পদ্মা সরকারি কলেজের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তাঁর দাবি, ছাত্রদল ওই হামলার ‘অল্প পরিমাণ প্রতিরোধ’ করেছে।
ইমরান নাজিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল যখন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ইমরান নাজির, আপনি কুমিল্লার বাসও পাবেন না—তা আপনাকে বলে দিতে চাই।’
সংঘর্ষে আহত ৫
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন ও ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, কলেজের ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়। সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, সকালে একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।