শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
Natun Kagoj

ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলার: নতুন প্রজন্মকে ভোট কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ

ইইউ রাষ্ট্রদূত মিলার: নতুন প্রজন্মকে ভোট কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সাথে, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তারা একটি বৃহৎ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ইইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ইইউ জানিয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর এবং তাদের বৃহৎ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অনুশীলনের দিকে যাচ্ছেন এবং এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি ইইউ–এর আস্থা ও সমর্থনের প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিলারের মতে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে ভালোভাবে এগোতে শুরু করেছে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যা ও বৈচিত্র্যময় বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেসব নাগরিককে ভোটকেন্দ্রে আনা—যারা আগে কখনও ভোট দেননি। অতীতের অভিজ্ঞতায় অনেকে ভোট থেকে দূরে ছিলেন; কেউ মনে করতেন নির্বাচন অবাধ–সুষ্ঠু হবে না, কেউ আবার আশঙ্কা করতেন সহিংসতার। তার মতে, একটি পুরো প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে অনাগ্রহী হওয়াই অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ভোটার শিক্ষার ওপর এখন জোর দিতে হবে। জনগণকে বুঝিয়ে বলতে হবে নির্বাচন কী, ভোটপ্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে এবং গণভোটের জটিল অংশগুলোর তাৎপর্য কী। এটি সরকারের, নির্বাচন কমিশনের এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাইকেল মিলার জানান, লজিস্টিক ও নিরাপত্তা—এই দুই ধরনের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জকেও ইসি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ঝুঁকি কমিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

এক প্রশ্নে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে, যা তার কাছে ‘যৌক্তিক’ মনে হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটের দিন দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এটি সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহান্তে সিইসির সঙ্গে একটি মহড়ায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব ও আগাম প্রস্তুতি তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি, সক্ষমতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বীকৃতি দেয়। নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হলে ইইউ বহু বছর পর বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ