শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ

ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার দিন আজ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভয়, সংশয় ও অনিশ্চয়তা জীবনের স্বাভাবিক অনুভূতি। নতুন কিছু শুরু করা, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা অপরিচিত কোনো পথে পা বাড়ানোর আগে কমবেশি সবার মনেই ভয় কাজ করে। তবে সেই ভয়কে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রক হতে না দেওয়াই সাহসের পরিচয়। ‘নির্ভয়ে বাঁচার দিন’ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, ভয় থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাহস মানে ভয়হীন থাকা নয়। বরং ভয়কে সঙ্গে নিয়েই নিজের লক্ষ্য ও সিদ্ধান্তের পথে এগিয়ে যাওয়ার নামই সাহস। তাই নতুন কিছু শেখা, নিজের মনের কথা প্রকাশ করা কিংবা দীর্ঘদিনের কোনো ইচ্ছা পূরণের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ নেওয়াও হতে পারে সাহসের প্রকাশ।

ভয় যেন সম্ভাবনার পথে বাধা না হয়

ভয়ের কারণে অনেকেই জীবনের নানা সুযোগ থেকে দূরে সরে থাকেন। ব্যর্থতার আশঙ্কা, অন্যের সমালোচনার ভয় কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষকে অনেক সময় একই জায়গায় আটকে রাখে। অথচ একটি ছোট সাহসী পদক্ষেপই বদলে দিতে পারে সেই পরিস্থিতি।

নিজের কোনো একটি ভয়কে মোকাবিলা করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই আত্মবিশ্বাস পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তিও জোগায়। ফলে ছোট একটি উদ্যোগ ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

নির্ভয়ে বাঁচার দিনের শুরু

‘নির্ভয়ে বাঁচার দিন’ বা ‘Live Fearlessly Day’-এর যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের তরুণী ল্যান্ড্রি চ্যামপ্লিন দিবসটির সূচনা করেন।

ভয় ও সংশয় কীভাবে মানুষকে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়, তা উপলব্ধি থেকেই তিনি এই দিবসের প্রচলন করেন। তার লক্ষ্য ছিল মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া—ভয়, উদ্বেগ কিংবা অনিশ্চয়তা জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও এগুলো যেন স্বপ্ন পূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

দিবসটির মূল বার্তা হলো, সব সময় নিখুঁত বা সম্পূর্ণ নির্ভীক হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ভয় থাকা সত্ত্বেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে করুন একটি প্রশ্ন

নিজের জীবনে কী কী ভয় আপনাকে আটকে রাখছে, তা নিয়ে ভাবার জন্য দিনটি হতে পারে একটি ভালো উপলক্ষ। নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন—‘ভয় যদি আমাকে থামিয়ে না দিত, তাহলে আমি কী করতাম?’

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনাকে নিজের কোনো পুরোনো স্বপ্ন, অপূর্ণ ইচ্ছা কিংবা দীর্ঘদিন এড়িয়ে চলা কোনো কাজের কথা মনে করিয়ে দেবে। এরপর সেই কাজটির দিকে এগিয়ে যেতে ছোট একটি পদক্ষেপ নিন।

সবার সামনে কথা বলা, নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া, অপরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করা—যেকোনো কিছুই হতে পারে সেই সাহসী পদক্ষেপ।

যেভাবে দিনটি পালন করতে পারেন

দীর্ঘদিন ধরে যে কাজটি ভয় বা সংকোচের কারণে এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটি চিহ্নিত করুন। একবারে বড় কিছু করার চেষ্টা না করে ছোট একটি পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন।

এমন একটি ঘটনার কথাও মনে করতে পারেন, যখন ভয়কে জয় করে আপনি সফলভাবে কোনো কাজ করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাছের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। আপনার গল্প অন্য কাউকেও সাহসী হতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

নতুন কোনো শখের চর্চা শুরু করা, নতুন খাবার চেষ্টা করা কিংবা পরিচিত পথের বদলে ভিন্ন কোনো পথে হাঁটাও হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা। এতে দৈনন্দিন একঘেয়েমি কাটার পাশাপাশি চিন্তার পরিধিও বাড়তে পারে।

চাইলে ভবিষ্যতের নিজের উদ্দেশে একটি চিঠিও লিখতে পারেন। সেখানে কঠিন সময়েও যেন হাল না ছাড়েন, সে বিষয়ে নিজেকেই উৎসাহ দিন। পরে সেই চিঠি পড়লে নিজের শক্তি ও সাহসের কথা নতুন করে মনে হতে পারে।

সবশেষে ভাবুন, আপনার কাছে ‘নির্ভয়ে বাঁচা’র অর্থ কী। সেই ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে একটি ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন এবং আজই তার দিকে প্রথম পদক্ষেপ নিন। কারণ বড় পরিবর্তনের শুরু অনেক সময় হয় খুব ছোট একটি সাহসী সিদ্ধান্ত থেকেই।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন