বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া

নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মিয়ানমারে ফিরে গেলে জীবন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন পরিস্থিতিতে কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলছে, প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেক শরণার্থীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হলেই কেবল তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়া দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে কোনো শরণার্থীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেরত পাঠাবে না, যেখানে তার জীবন বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি জানান, মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসন শরণার্থীদের গ্রহণে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেকের অবস্থা যাচাই করা হবে এবং সব শর্ত সন্তোষজনক হলে তবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

ফাহমি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করছে। জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে কাউকেই ফেরত পাঠানো হবে না।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজারই রোহিঙ্গা, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।

সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হলেও পরে তাদের বৈধ নিবন্ধনপত্র যাচাই করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শরণার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার অন্যতম রোহিঙ্গা অধিকার সংগঠন সরকারকে এই পরিকল্পনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে ফিরলে রোহিঙ্গাদের জীবন ও নিরাপত্তা আবারও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শরণার্থীদের অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল হলেও দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন