ইবি ডরমিটরি-২ দখল: অবৈধ বসবাসে প্রো-ভিসির নামও যুক্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নবনির্মিত ডরমিটরি-২ এর কক্ষ অবৈধভাবে দখল করে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন বৈধ বরাদ্দ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই অবৈধ দখল হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। তবে অবৈধভাবে দখলের অভিযুক্তদের তালিকায় খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য এবং বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নাম উঠে এসেছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের জুনে ডরমিটরি-২ এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নিয়মানুযায়ী প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর কক্ষ বরাদ্দের কথা থাকলেও নানা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিগত প্রশাসন বরাদ্দ দেয় নি। পরে ২০২৩ সালের ২১ জুন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ তালা ভেঙে ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলার ১৬টি কক্ষ দখল করে নেন। সেসময় কক্ষ দখলকারী শিক্ষকদের তালিকায় বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীও ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর বাসাবাড়ি বরাদ্দ কমিটির মাত্র একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ওই মিটিংয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সকলকে বরাদ্দহীন বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময় ৩১ আগস্ট পার হলেও কেউই বাসা ত্যাগ করেন নি বলে জানায় এস্টেট দপ্তর।
এস্টেট দপ্তর সূত্রে, দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব বাসার মাসিক ভাড়া ২১০০ টাকা। সেই হিসেবে দুই বছর ৩ মাসে প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকা ভাড়া বকেয়া পড়েছে এসকল অবৈধ দখলকৃত ১৬টি বাসায়। তবে প্রশাসন কর্তৃক বরাদ্দ না থাকায় এসব বাসায় এখনও পর্যন্ত ভাড়া আদায় করতে পারেনি দপ্তরটি। ফলে অবৈধ পন্থায় বাসাগুলোতে বাঁধাহীনভাবে অবস্থান করছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
এদিকে প্রশাসনের উদ্বর্তন কর্মকর্তার এমন আচরণ এবং দীর্ঘদিন আবেদন করেও বাসা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। এবিষয়ে ব্যবস্থপনা বিভাগের ভুক্তভোগী অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন আবাসন সংকটে ভুগছি। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের শিক্ষকরা আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয় নি। বর্তমানেও যোগ্যতা এবং নির্ধারিত নিয়মে বাসাবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। যারা সে-সময় অবৈধভাবে দখল করেছে, তারা এখনও অবৈধভাবেই রয়েছে। এসকল বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে! এসময় তিনি সঠিক পন্থায় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বাসাবাড়ি বরাদ্দের দাবি জানান।
শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এমন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বাসা দখল করে রাখা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষক বলেন, প্রো-ভিসি নিজেই অভিযুক্তদের তালিকায় থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি শক্তভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না৷ দীর্ঘদিন চিঠির মেয়াদ পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। এসময় তিনি আরও বলেন, শীর্ষ কর্তাব্যক্তি হিসেবে এসব কাজের কারণে তিনি তার অবস্থান হারাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে এস্টেট অফিসের প্রধান মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন কোনো কারণ ছাড়াই এই সমস্যা জিইয়ে রেখেছিলো এবং বর্তমান প্রশাসন তাদেরকে নামার জন্য ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের শক্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, ইতোমধ্যে জড়িতদের চিঠির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। যদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাহলে অবশ্যই তারা মানতে বাধ্য। তাছাড়া কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আসলে তাদের বকেয়া ভাড়া সবই হিসাব করে উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে মিটিং করে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী। তিনি জানান, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বাসা ত্যাগের জন্য একাধিকবার বলেছি। তবে তারা এখনও বাসা ত্যাগ করে নি। আমরা আগামী সপ্তাহে মিটিং করে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
এদিকে তার প্রশ্রয়ে অবৈধদের দীর্ঘদিনের বসবাস এবং তিনিও অবৈধ দখলের সাথে যুক্ত ছিলেন কি-না এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সেসময় একটি কক্ষ খালি থাকায় আমি আরেকজন শিক্ষকের সাথে শেয়ার করে ওই কক্ষটি নিই। ওখানে অল্পকিছুদিন থেকেছিলাম আমি। পরে আমার নামে বৈধ বাসা বরাদ্দ হলে ওই কক্ষটি ছেড়ে দিই। এসময় তার প্রশ্রয়ে অবৈধভাবে বসবাস চলার অভিযোগটি তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেন।