বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
Natun Kagoj

ছাত্রীদের রাত-বিরাতে মেসেজ দেন জাতীয় পার্টির নেতা শামীম হায়দার পাটোয়ারী

ছাত্রীদের রাত-বিরাতে মেসেজ দেন জাতীয় পার্টির নেতা শামীম হায়দার পাটোয়ারী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে এ দলের একাংশের মহাসচিব। পার্লামেন্টে কথার ফুলঝুরি ভালোই ফোটান। জাতীয় সংসদে ও মিডিয়ায় নীতিকথা আর বাকপটুতায় সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তিনি হয়েছেন মোটামুটি পরিচিত মুখ। তবে বাস্তবে তার চরিত্র পুরোই উল্টো। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র থেকে চেয়ারম্যান বনে যাওয়া শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকেই রাত-বিরাতে মেসেজ দিয়ে বেড়ান। এমনই কিছু স্ক্রিনশট এসেছে আমাদের হাতে।

তবে স্ক্রিনশটগুলো ২০২৪ সালের। সে সময় এগুলো দিয়ে সংবাদ করা হলে প্রথমে নিজের ল’ ফার্মের আইনজীবি দিয়ে মামলা করবেন বলে হুমকি দিতেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এসব হুমকি দিয়েও যখন নিউজ বন্ধ করতে পারেননি তখন ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন অসাধু উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামের দ্বারস্থ হন জাতীয় পার্টির এ নেতা। গোয়েন্দা সংস্থার এই কর্মকর্তা চাপ প্রয়োগ করে প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলতে বাধ্য করতেন।  

এসব স্ক্রিনশটে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে রাত ১টার দিকে মেসেজ দেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। সেখানে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। এমনকি ওই ছাত্রীকে রাত ১টার পরে কল দিতে চান পাটোয়ারী। কৌশলে তখন ওই ছাত্রী তাকে কল দিতে নিষেধ করে বলেন, ‌‘এখন যে পাশে বোন, পড়ছে। আমরা দুই বোন একসঙ্গে থাকি।’

আরেক স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে উঠেই ভোরবেলায় ‘গুড মর্নিং’ মেসেজ দেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এরপর তিনি ওই ছাত্রীকে মেসেজে নানা ধরনের কথাবার্তা বলতে থাকেন। এরপর আরও বহুদিন তিনি মেসেজ দিয়ে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করেন।

এসব মেসেজের বিষয়ে ওই ছাত্রী বলেন, শামীম হায়দার পাটোয়ারী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান। তিনি যদি একজন ছাত্রীকে এভাবে দিনের পর দিন মেসেজ দিতে থাকেন, তাহলে আর কী বলার থাকে? ওনাকে তো প্রথমে সরাসরি না বলতে পারি না। মেসেজ দিতে না বললে তিনি রেজাল্ট সংক্রান্ত নানা ধরনের হুমকি দেন। অনেক ছাত্রীর সাথেই তিনি এমন আচরণ করেন। তারপরও আমি নানা বাহানায় ওনার কল এড়িয়ে যাই। কিন্তু তিনি নানা ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজ দিয়েই গেছেন। এজন্য শেষ পর্যন্ত আমি ভার্সিটিতে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম।

অন্যদিকে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)’র সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার রওশানের এক কল রেকর্ডে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর রেজাল্ট বিক্রির সিন্ডিকেটের কথা উঠে এসেছে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে রেজাল্টের যদি কোনো কাজ হয় (বিক্রি) তাহলে সেটা আমি করতে পারি না। আমাকে যদি আপনি বলেন, তাহলে আমি চেয়ারম্যান স্যারকে বলব, স্যার এই কাজটা করে দেন। এই কাজে চেয়ারম্যান স্যার জড়িত থাকা লাগবে, চেয়ারম্যানের নির্দেশ লাগবে, এছাড়া হবে না। আমি জাস্ট মাঠপর্যায় থেকে নিয়ে আসি। চেয়ারম্যান স্যার এটা করেন।’ ওই কথোপকথনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময়ে পাশ করানোর কথা উঠে আসে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল পিকচার থেকে নিজের ছবি ডিলিট করে দেন। এরপর বেশ কয়েকবার তার ০১৮১৭-১৫***৯ নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে কল দিলে তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন