কাঁচামরিচ-সবজির দাম চড়া, ক্রেতাদের ভোগান্তি

ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় কাঁচাপণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে কাঁচাবাজারের দামে। বিশেষ করে শাক-সবজি ও কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাছের দামও বেড়েছে, ফলে ক্রেতারা বাজারে অস্বস্তিতে পড়েছেন।
অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। খুচরা বাজারে কেজি প্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১২০-১৮০ টাকা।
কারওয়ান বাজার, রামপুরা, শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১ নম্বর, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল বাজারে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৮০ টাকার নিচে পাওয়া দুষ্কর। চিচিঙা, ধুন্দল, ঢ্যাঁড়শ, পটল, করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৮০-১৪০ টাকা। গোল বেগুনের কেজি ২০০-২২০ টাকা, যা ব্রয়লার মুরগির দামের চেয়েও বেশি।
নিউমার্কেটে ক্রেতা শিশির হোসাইন বলেন, “বৃষ্টি হলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। সকালে এক দাম রাখে, রাতে আরেকটা।”
শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা নাজনীন আলম বলেন, “আগে ভ্যানে কম দামে সবজি মিলতো। এখন ভ্যানেও যা, বাজারেও তা—একটাকাও কমাতে চায় না কেউ।”
তেজকুনিপাড়া বাজারের শিহাব উদ্দিন বলেন, “সবজির কোনো ঘাটতি নেই, তবু দাম বাড়তি। ৮০ টাকায় মাত্র ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনলাম, গত সপ্তাহে যা ৩০ টাকা ছিল।”
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিক উদ্দিন জানান, “টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হচ্ছে। ঢাকায় আসতে পারছে না সবজির ট্রাক। মরিচের সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে।”
শেওড়াপাড়া বাজারের একজন বিক্রেতা বলেন, “এখন ৫ কেজি কাঁচামরিচ কিনতে ১২০০-১৩০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যেখানে এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০০-৯০০ টাকা।”
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার বলেন, “বর্ষায় নিচু জমিতে ফসল টিকে থাকে না। এজন্য মরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম চড়া।”
সরকার ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করলেও এর প্রভাব বাজারে পড়েছে। বড় ইলিশের কেজি প্রতি দাম বেড়ে ২৩০০-২৪০০ টাকা, ছোট ইলিশ ১,৬০০-২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষের রুই, কাতলা, শিং, চিংড়ি, টেংরা, কৈসহ সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসি ১,১০০-১,২০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি হাঁস ৬০০-৬৫০ টাকা, রাজহাঁস ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।