রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • গোল্ড মেডেলিস্ট পুলিশ সদস্যের আর্তনাদ ও চাকরি ছাড়ার আকুতি নারী বান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি জুবাইদা রহমানের ছেলের মৃত্যুতে মেলেনি ছুটি: নির্বাচন ডিউটির চাপে এক পুলিশ বাবার আহাজারি ঢাকা-১৭ থেকে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান ভোটার সহায়তায় সরকার চালু করলো ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন’ নম্বর বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করবে বিএনপি: তারেক রহমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া: ৩৬ দিনে ১৫ নেতাকর্মী নিহত জিয়াউর রহমানের ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে তারেক রহমানের কারণে: আসিফ মাহমুদ সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযান, উখিয়ায় ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে জরুরি বৈঠক, পাকিস্তানে বিসিবি সভাপতি
  • মধুপুরে যাদুকন্যা পারুল আক্তারের প্রতারণার কাহিনি

    মধুপুরে যাদুকন্যা পারুল আক্তারের প্রতারণার কাহিনি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর মালিক পরিচয়ে আলোচনায় এসেছেন এক নারী, নাম পারুল আক্তার। স্থানীয়ভাবে ‘যাদুকন্যা’ হিসেবে পরিচিত এই নারীকে ঘিরে নানা রহস্য ও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

    পারুল আক্তার, পিতা শেখ মো. আনিছুর রহমান, গ্রাম বালিয়া চড়া, ডাকঘর জটাবাড়ী, উপজেলা মধুপুর, জেলা টাঙ্গাইল। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জননী হলেও সন্তানটির প্রকৃত পিতার পরিচয় আজও অজানা।

    ২০২১ সালে এক প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে পারুল আক্তারের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তখন তার স্বামীর নাম পরিচয় দেওয়া হয়েছিল নাহিদ হাসান। বলা হয়েছিল, তিনি জার্মানিতে অবস্থান করছেন। তবে এতোদিনেও নাহিদ হাসান দেশে ফিরে আসেননি কিংবা তার কোনো ছবি বা সঠিক পরিচয় কেউ দিতে পারেননি। থানা পুলিশ, ডিবি, গোয়েন্দা এমনকি মিডিয়াকর্মীরা দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়েও নাহিদ হাসান নামের কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    গ্রামবাসীর দাবি, বিদেশ থেকে অর্থ প্রেরণের কোনো প্রমাণ না থাকলেও বিগত এক দশকে পারুল আক্তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বহুতল ভবনের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা, রহস্যময়ভাবে গড়ে ওঠা এই সম্পদ কেবল বৈধ উপার্জনের ফসল নয়।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, পারুল আক্তারের প্রথম টার্গেট ছিলেন সমাজের বিত্তশালী ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়াররা। দ্বিতীয় টার্গেট ছিলেন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মিডিয়াকর্মীরা।

    ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আলামিনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন পারুল। পরে আলামিনের বাড়িতে গিয়ে টানা ১৪ দিন অনশন করে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেন। ঘটনাটি সে সময় দেশব্যাপী পত্রপত্রিকায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

    ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পারুল আক্তার মধুপুর ও আশপাশের এলাকায় নানা প্রভাবশালী ডাক্তারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। অভিযোগ আছে, তিনি একাধিক ডাক্তারকে সাময়িকভাবে বিয়েও করেছেন। তবে এসব বিয়ের কোনো কাবিননামা মধুপুর কাজী অফিসে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার প্রকৃত স্বামী কে? সেটি কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না।

    আজ অবধি পারুল আক্তারের ব্যক্তিগত জীবন রহস্যে ঘেরা। তার স্বামী নাহিদ হাসানের প্রকৃত অস্তিত্ব অজানা। সন্তানটির পিতৃপরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। অথচ তিনি জিরো থেকে হিরো হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে পারুল আক্তারের স্বামী ও তার সম্পদের উৎস খুঁজে বের করা জরুরি।

    (আগামী পর্বে প্রকাশিত হবে : পারুল আক্তারের সম্পদের বিস্তারিত তালিকা ও তার ছোট বোনকে ঘিরে নানা তথ্য।)


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন